Posts

যাত্রা

হ্যাঁ, আমি নেই। সময়ের অস্তিত্বে আমি আর বর্তমান নেই। আসলে আমি যে ছিলাম কিংবা আছি এটাও এক ধরনের ভ্রান্তি। কিংবা আমার ভেতর অন্য কোনো আমি আমাকে উপজিব্য করে বর্তমান হয়ে আছে হয়তো। নিঃশ্বাসে ঘড়ঘড় শব্দ তুলে আমার ভেতরের এই আমি মাংশাবৃত শরীর থেকে মুক্তি নিলাম, এই- এক্ষুনি। এতদিন অভ্যস্ত অভ্যাসের আবেগী দেহটাকে কষ্ট দিয়ে, ক্লান্ত আমি বেরিয়ে এলাম। আমার অবস্থান পরিবর্তনে মহাবিশ্বের হিসেবের বিন্দুমাত্র আক্ষরিক কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি। আমি নেই তবু বড্ড বেমানান সমস্যা। সময়, এবং স্মৃতিরা অস্তিত্বের বিমূর্ত বর্তমান হয়ে রইলো অন্যত্র দীর্ঘ নিশ্বাসে, অনেক গুলো মস্তিষ্ক জুড়ে আমার স্মৃতির সময় গুলো ভাসছে। আমার না থাকা অবস্থান ঠিকই তৈরি করে নেবে, অভ্যাস আর অভ্যস্ততায়। মুক্ত অপার্থিব এক চেতনা হয়ে বিলীন মহাকালের গহ্বরে এগুচ্ছি। কিচ্ছু আসে যায়না। তোমরা যাকে প্রান বলো- সে শুধুমাত্র তোমাদের মস্তিষ্কের নিউরনের জটিল ভ্রম স্মৃতি, যেখানে মহাবিশ্ব লালিত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে।

ফ্লাস ফ্লাড

 পাহাড়ি বৃষ্টি গুলো একটু অন্যরকম। আজ কদিন ধরেই ঝুমম বৃষ্টি হচ্ছে পাহাড়ে। সবুজ, নীল, মেঘ, আর পাহাড় আমার ভালোবাসার অনন্য অদ্ভুত এক ক্যানভাস। ঝুম বৃষ্টির দিনে নিজেকে আটকে রাখাটা তাই খুবই যন্ত্রণাদায়ক। এই ঝুম বৃষ্টিতে ক'দিন পাহাড়ে কাটাবো বলে- যাত্রার শুরু। সাধারণত প্রতিবারই আমার দলটা যথা সম্ভব ছোটই থাকে। এইবারে আরো আনেক ছোট। আমি আর আমার বউ। সাথে তাবু, যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যবহার্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী সহ সামন্য কিছু রান্নার সামগ্রী, আর ছোট ছোট দুটো যাযাবর ব্যাগ। ঘর ছেড়ে বের হবার সময় থেকে শুরু করে এবারের গন্তব্যের পুরোটাই এলোমেলো। গাড়ি তে উঠে বসলাম, নামিয়ে দিলো বান্দরবান।  ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চান্দের গাড়ি করে রুমা বাজারের দিকে যাত্রা শুরু। রুমার রাস্তা এখন পর্যটক দের জন্য বন্ধ। রুমা বাজারে রিপোর্ট না করেই চোরাই পথে নৌকা করে রওনা দিলাম। সাথে স্থানীয় এক বন্ধু। প্রায় ঘন্টা তিন- নৌকা চলার পর বড় একটা ঝিরি আর নদীর মিলন স্থলের একটা সুন্দর যায়গা দেখে নৌকা থেকে নেমে পড়লাম, কথা ছিলো, ঠিক দুইদিন পর এই যায়গা থেকেই মাঝি আমাদের আবার নিয়ে যাবে। সুন্দর শ্যাওলা পিচ্ছিল পাথুরে ঝিরিপথ ধরে যাত্রা শুর...

মিরের সরাই এর রাত

তন্দ্রাচ্ছন্ন তাবুগুলোর বাইরে জোনাকির ঝাঁক।ঝিরিপথের বিশালাকার পাথরের প্লেট গুলোর বিমুর্ত আত্মপ্রদর্শনী জুড়ে প্রানীকুলের অসহায়ত্বের মূর্ত প্রকাশ কিংবা, প্রকৃতির একান্ত জীবন যাপনের দীর্ঘতর ফসিল কাব্য। দূর থেকে, কন্যা দায়গ্রস্থ পিতার মত দাডিয়ে থাকা সবুজ গহীনের সর্পিল নিস্তব্ধ পথের নুড়ির বুকে, বুনো পাখির ডাক বিদ্ধ হয়ে আদিম মায়ার কাঁপন জাগায়। তার মাঝে বুকের উপর ভর করে ছোট শামুকের ধীর গন্তব্য। হরিনী যৌবনার ভীত ঠোট কেঁপে উঠা শীতল সচ্ছ উন্মাদ জলচুম্বন কিংবা পাহাড়ি কুমারীর সপ্ন চোখে বিজলীর ছটা। এড়াতে পারিনা আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়ানো জংলী লতার প্রেম বন্ধন নগ্ন বাহু। আদিম তৃষ্ণার মদিরতার ঘোর ঝাপ দেয় ধরিত্রীকন্যার বুক চিরে বের হয়ে আসা প্রতিটি অশ্রু জলের গর্ভাশয়ে, পূনজন্মের লোভাতুর চোখ নিয়ে। মিরেরসরাই, চট্রলা। পহেলা অক্টোবর ২০১৬